• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন |

মানসিক আঘাত ভোলা যায় না : জাফর ইকবাল

jafor1441020679সিসি ডেস্ক : জনপ্রিয় লেখক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘শারীরিক আঘাতে কিছু যায়-আসে না। কিন্তু মানসিক আঘাত কোনোদিন ভোলা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ছাত্ররা শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলবে, সবাই সেটা নিয়ে কথা বলবে আর সবকিছুর আয়োজন করবে একজন ভাইস চ্যান্সেলর- সেই দৃশ্য আমাকে বসে বসে দেখতে হয়েছে। সেটা কখনো ভুলব না আমি।

‘রোববারের যে ঘটনা আমাকে দেখতে হলো তারপর এখানে না এলে অন্যায় হয়ে যায়। আমার এ জীবনে আমি অনেক কিছু দেখেছি। কিন্তু রোববারের ঘটনার মতো কোনো ঘটনা যে আমাকে জীবনে দেখতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি।’

আন্দোলনে না থাকার বিষয়ে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমি এই আন্দোলনে শারীরিকভাবে না থাকলেও মানসিকভাবে একশ ভাগ সমর্থন করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার একজন ছাত্র একবার আমাকে বলেছিল, আমিই বাংলাদেশের একমাত্র ব্যক্তি যাকে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, হেফাজত, আওয়ামী লীগ, বাম সংগঠনগুলো একযোগে অপছন্দ করে। আমি যেখানে থাকব, সেখানেই ঝামেলা হবে। সে কারণেই আমি শারীরিকভাবে আন্দোলন থেকে দূরে সরে ছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমি সবার কাছে ক্ষমা চাই, কারণ আমরা এখানে এমন কিছু ছাত্র সৃষ্টি করেছি, যাদের ব্যবহার করা যায়, যারা শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলে। এই অপমান সহ্য করে এখানে থাকা ঠিক না, কিন্তু একবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে যে নাটক সাজিয়েছিল ছাত্ররা তারপর এই সিদ্ধান্ত আমরা আর নিতে পারি না। কিন্তু এখন গেলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যে সরকার, যে সরকার যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে, তাদের ছাত্রসংগঠনের হাতে মাথা নিচু করে বিদায় নেওয়া হবে।’

এই আন্দোলনকে বোকাদের আন্দোলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধী এই আন্দোলন দেখলে অবাক হতেন। যে আন্দোলনে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয় না, যে আন্দোলনে কোনো চাপ সৃষ্টি হয় না, সেটা আসলে কী ধরনের আন্দোলন। তবে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করার জন্য তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষকদের কৃতজ্ঞতা জানান।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ